* শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
* শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি নাহিদ ইসলামের
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু হচ্ছে নাসির উদ্দীন, অধ্যাপক, জবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের দাবিসহ পাঁচ দফা ও ইউজিসির পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সচিবালয় সামনে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেয়ার পরই সবগুলো গেট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সচিবালয় থেকে কোনো গাড়ি বের হতে পারেনি আবার কোনো গাড়ি প্রবেশও করতে পারেনি। এতে অনেকটাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সচিবালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এককথায় বলতে গেলে শিক্ষাথীদের দাবি আদায়ে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সচিবালয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমি কে, তুমি কে, জবিয়ান, জবিয়ান’, ‘মুলা না ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাস’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম, সংগ্রাম’, অধিকার না অন্যায়, অধিকার, অধিকারসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তবে তাদের দাবি আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন তথ্য উপদেষ্টা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। তবে শিক্ষার্থীরা তা মানতে নারাজ, তারা এক কর্মদিবসের মধ্যে দাবি মেনে নেয়ার তাগিদ দেন। এরআগে পদযাত্রাকালে আমি কে তুমি কে, জবিয়ান জবিয়ান; মুলা না ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাস ক্যাম্পাস; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রামসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেন তারা।
এর আগে সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে গণপদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গণপদযাত্রায় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে শিক্ষার্থীরা গেটের সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। বন্ধ গেটগুলোর সামনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। সচিবালয়ের ভেতরে গাড়িগুলো বাইরে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকের ৫ নম্বর গেট দিয়ে হেঁটে বের হতে দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকবার অবরুদ্ধ ছিল প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়। এরআগে ১১টা নাগাদ ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা একটি গণপদযাত্রা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা করেন। পদযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। এদিকে অবরোধের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার পাঁচটি মুখে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি হলো- স্বৈরাচার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ডিরেক্টরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যে সেনাবাহিনীর দক্ষ অফিসারদের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখাসহ ঘোষণা করতে হবে যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর হয়েছে। অবিলম্বে বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং পুরাতন ক্যাম্পাস নিয়ে স্বৈরাচার সরকারের আমলের সব চুক্তি বাতিল করতে হবে। সম্প্রতি ইউজিসির ঘোষণাকৃত পাইলট প্রকল্পে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট সর্বনিম্ন ৫০০ (পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
সচিবালয় ঘেরাওয়ে যা বললেন জবি শিক্ষার্থীরা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, ইউজিসির পাইলট প্রকল্পে জবিকে অন্তর্ভুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে একটি গণপদযাত্রা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করতে চাইলে, সচিব তাদের সঙ্গে দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের শিক্ষার্থী নওশীন নাওয়ার জয়া বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা জবিয়ানরা পিছিয়ে আছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের সারাদিন টিউশনি করতে হয়। আমাদের দাবি সেনাবাহিনীকে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস কাজ দিতে হবে। ইউজিসি যে হিট প্রকল্প নিয়েছে তা বৈষম্যমূলক। আন্দোলনের সংগঠক এ কে এম রাকিব বলেন, আমরা আজ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেবো। পাশাপাশি তিন কার্যদিবসের সময় দেবো। যদি এরমধ্যে এসব সমস্যার সমাধান না করা হয় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আন্দোলনের মুখপাত্র তৌসিব মাহমুদ সোহান বলেন, আমরা আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তিন দিনের একটি আল্টিমেটাম দেবো এবং হিট প্রকল্পে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আজকের মধ্যেই লিখিত দিতে হবে। তিনি বলেন, সচিব আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না বলেছেন, তাই আমরা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছি! বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেন শিকদার বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাওয়া দরকার তা জবিয়ানরা পায় না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সবার শেষের আগেরটা জবি, এরপর থাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা এই বৈষম্য মেনে নেবো না। আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কাজই হয় নাই। আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন নাহিদ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের সামনে অবস্থানরত জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে নিজ অফিস থেকে নেমে এসে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, এগুলো যৌক্তিক দাবি। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থাকবে না, হল থাকবে না এটা হতে পারে না। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, দ্রুত এসব পালন করা হবে। শিগগির শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা একদিনের মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতি চান। এর আগে, কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের দাবিসহ পাঁচ দফা ও ইউজিসির পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সচিবালয় সামনে অবস্থান নেন জবি শিক্ষার্থীরা। এখনও পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সচিবালের সামনে অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে আজ থেকে কাজ শুরু হচ্ছে: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেছেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের যে যৌক্তিক দাবি রয়েছে, সেগুলো যাতে বাস্তবায়ন করা যায় সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি আগামীকাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে। সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরাও আছি। দাবি পূরণ না হলে আমরাও আন্দোলনে অংশ নেব। শিক্ষার্থীদের আবাসনের সমস্যা রয়েছে, সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করে শিক্ষার্থীদের এই কষ্ট দূর করা হবে। তার বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে থেকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। সেখান থেকে তারা সরে গেলে সচিবালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচলও আবার স্বাভাবিক হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

জবি শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি
শিক্ষার্থীদের ঘেরাওয়ে অবরুদ্ধ সচিবালয়
- আপলোড সময় : ১২-১১-২০২৪ ১২:২০:৩২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১১-২০২৪ ১২:২০:৩২ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ